• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ রাত ১১:৪৪:২৮ (30-Nov-2022)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

সারাবাংলা

নাসিম ওসমান সেতু উদ্বোধনে ওসমান পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

১০ই অক্টোবর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:১৬:০১

স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হাবিবুর রহমান (নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি) : দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চালু হলো নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। গতকাল সোমবার (১০ অক্টোবর) উদ্বোধনের মাধ্যমে সমাপ্তি হলো উদ্বোধনের দীর্ঘ প্রতিক্ষার। সৌদী আরব ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৬০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুতে স্বপ্ন পূরণ হলো নারায়ণগঞ্জের সদর ও বন্দর উপজেলাবাসীর। সোমবার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সেতুর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাথে তিনদিকে নদী বেষ্টিত বন্দর উপজেলার মধ্যে সংযোগ তৈরি হলো। তাই উদ্বোধনী দিনে ব্রীজের টোল প্লাজার সামনে উদ্বোধনী মঞ্চে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলো। 

সেতু উদ্বোধনকালে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগ পরিবার ওসমান পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রেখেছেন। এসময় কাঁদতে দেখা গেছে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানকে। আবেগতাড়িত হয়েছেন ওসমান পরিবারের আরেক সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শীতলক্ষ্যা সেতু নাসিম ওসমানের নামেই দিয়েছি। নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানের বাবা জোহা সাহেব আওয়ামীলীগের নেতা ছিলেন। তার দাদা ওসমান সাহেব বলতে গেলে আওয়ামীলীগের একটা ঘাটি ছিলেন। তিনি সবসময় অবদান রেখেছেন মুক্তিযুদ্ধে। এমনকি নাসিম ওসমানের বাবা জোহা সাহেব ৭১ সালে যখন আমার মা এবং আমরা সবাই ধানমন্ডির বাসায় বন্দি ১৬ ডিসেম্বর যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সারেন্ডার করে এই সারেন্ডার করার পর আমরা মুক্তি পাইনি। পাকিস্তানিরা আমাদের ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু জোহা সাহেব ভেবেছিলেন আমরা হয়তো মুক্তি পেয়েছি তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে আসছিলেন। সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনারা এই বাসার উপর থেকে তাকে গুলি করে, তার বুকে গুলিও লাগে কিন্তু তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তাকে আমি স্মরণ করি। ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য একটা কালো অধ্যায়। ১৪ আগস্ট নাসিম ওসমানের বিয়ে হয়। তার বিয়েতে কামালও গিয়েছিল। কামাল ফিরে আসে। ১৫ আগস্টের এই হত্যার প্রতিবাদ জানাতে নবপরিণীতা স্ত্রীকে রেখে সে এই হত্যার প্রতিবাদ জানাতে বেরিয়ে পড়েছিল। সেদিন এই হত্যার প্রতিবাদ করে সে। সেই সব কথা সব সময় আমি স্মরণ করি। যদিও এক সময় সে আমাদের পার্টি করতোনা অন্য পার্টিতে গিয়েছিল। সবসময় সে আমার সাথে যোগাযোগ রাখতো সম্মান করতো। তার একটা আকাংখা ছিল এই সেতুটার জন্য। বার বার আসতো। যখন আমরা সেতুটা তৈরী করা শুরু করলাম তখনি সে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। সে একজন চ্যালেঞ্জিং মুক্তিযোদ্ধা, ৭৫ এর প্রতিবাদকারী। তার নামেই সেতুটা করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, কিছু কিছু অনুভূতি আছে যেগুলো ব্যক্ত করা যায়না ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা আজকে থেকে ৪০/৫০ বছর আগের ঘটনা মনে রেখে যে বক্তব্য আজকে দিয়েছেন আমি একজন এই পরিবারের সন্তান হিসেবে কোন শব্দ দিয়ে আমি এটার উত্তর দিতে পারবোনা। এসময় তার চোখ দিয়ে অঝোড় ধারায় অশ্রু ঝরছিলো।

শামীম ওসমান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে শুধু নাসিম ওসমান সেতুই দেননি তিনি আমার দাদার নামে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম করেছেন যা নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। তিনি আমার আব্বার নামে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়েছেন যা বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রোড হবে, তার নামকরণ হবে একেএম সামসুজ্জোহা সড়ক। আমরা চাইনি তিনিই দিয়েছেন। আমার মাকে তিনি অনেক ভালোবাসতে তিনি ভাষা সৈনিক ছিলেন। সেই মায়ের নামে চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক হচ্ছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ লোক উপকৃত হবে। এ ছাড়াও যে পরিমান কাজ নারায়ণগঞ্জে হয়েছে আমার মনে হয় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করতে পারবোনা”।

প্রয়োজনে আবারো রক্ত দেয়ার কথা তুলে ধরে শামীম ওসমান বলেন, নেত্রী বার বার একটা কথা বলেছেন, সাংগঠনিকভাবে এবং তার বিপদে নারায়ণগঞ্জের মানুষ তার পাশে ছিল। আজকে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, যে কয়দিন বেঁচে আছি অতীতেও যেভাবে জাতির পিতার পরিবার, নিজের দেশের স্বার্থে বাংলাদেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে এই পরিবারের পাশে ছিল ইনশাআল্লাহ আগামীতেও জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার পাশে নারায়ণগঞ্জের মানুষ এভাবেই থাকবে। অতীতেও যেমন বুকের রক্ত দিয়েছে, আগামীতেও দরকার হলে বুকের রক্ত দিয়েই জাতির পিতার কন্যার যেই স্বপ্ন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। 

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা একএম নাসিম ওসমান শীতলক্ষা ৩য় সেতু প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৫ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি। ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। হাঁটার পথসহ সেতুটির প্রস্থ ২২ দশমিক ১৫ মিটার। এছাড়া ছয় লেনের টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডও নির্মাণ করা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর উপজেলা ও সোনারগাঁ উপজেলাকে জেলা সদর থেকে পৃথক করেছে। এ দুটি উপজেলা সরাসরি সড়কপথে জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। দুই উপজেলা থেকে সদরে যেতে কাঁচপুর ব্রিজ (শীতলক্ষ্যা-১ সেতু) ব্যবহার করতে হতো, যার জন্য নৌকায় নদী পথের মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো।

 

 

 

সর্বশেষ সংবাদ



ওসি দিপুর কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন 
৩০শে নভেম্বর ২০২২ সকাল ১১:৩২:৩১


সাংবাদিক কন্যা মুবাশ্বিরা পেলেন জিপিএ-৫
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৪৫:৫৮

আমাদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়: লিপি ওসমান
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৩৭:৪৯

খুনিদের সাথে কিসের আলোচনা : শামীম ওসমান
২৮শে নভেম্বর ২০২২ রাত ০৮:২৪:৫৩

নৌ-যান শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘাট পালন 
২৮শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:২০:৩৪

শ্রীপুরে অনুমোদনহীন বিদেশী ঔষুধ উদ্ধার
২৮শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৩:০০:৫০

নারায়ণগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন
২৭শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:৫২:২০

ASIAN TV