• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ সকাল ০৮:৩০:৩৩ (10-Dec-2022)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

সারাবাংলা

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও উদাসীন সিটি কর্পোরেশন

১৭ই নভেম্বর ২০২২ দুপুর ০২:০২:৩১

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও উদাসীন সিটি কর্পোরেশন

হাবিবুর রহমান (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগী আশংকাজনকভাবে বাড়ছে। শহরের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৪০ জন রোগী ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এরমধ্যে গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১২ জন। জেলায় এখনো ডেঙ্গু রোগে কোন মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে মশক নিধনের বাজেট অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোন বিশেষ কার্যক্রম না থাকায় উদাসীনতায় অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে।

শহরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহি.বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে ১০ জন। একই পরিস্থিতি জেনারেল হাসপাতালেও। হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা গ্রহন করছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বহি.বিভাগ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে ৯-১০ জন। এছাড়াও প্রাইভেট হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা।

এব্যাপারে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুদ্দিন বলেন, নগরীতে একসময় যেভাবে মশা নিধন কার্যক্রম চলতো, এখন সেই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছেনা। সিটিতে কার্যকর পদ্ধতিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা আমি দেখছি না। শহরে ও শহরের বাহিরে অনেক নির্মাণাধীন ভবন ও বাসাবাড়িতে পানি জমে থাকে। এসব জায়গায় এডিস মশার লার্ভা বেশি থাকে। সিটি করপোরেশন থেকে এসব জায়গায় পরিদর্শনসহ অভিযান করত, জরিমানা করতে দেখা যেত কয়েকবছর আগে। ইচ্ছে করলে সিটি করপোরেশন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনটা হলে শহরবাসী উপকৃত হবে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কখনোই ডেঙ্গু প্রকোপ এতো বেশি দেখা যায়না। এখন ডেঙ্গুর যে পরিস্থিতি, এটা একটা এলার্মিং সিচুয়েশন (উদ্বেগজনক পরিস্থিতি)। এখনই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, মশক নিধন ও ফগার মেশিনের জ্বালানির জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরে এই বাজেট ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা। মশক নিধন কার্যক্রমে ১৭০ জন কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। এর বাহিরে রয়েছে একটি টিম যারা জরুরি প্রয়োজনে মশক নিধন করে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেনি। তবে পুরো দেশের মতো আমাদের জেলাতেও মশক নিধনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সচেতন না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ডেঙ্গু রোগ থেকে রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে। এডিস বাসাবাড়ি বা নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে জন্ম নেয়। বাড়ির আশেপাশে যেন পানি জমে না থাকে, সেইদিকে নজর রাখতে হবে। প্রশাসনিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধনের জন্য নিয়মিত কাজ করছি। কিন্তু আমাদের যেহেতু নিজস্ব কোন ম্যাজিস্ট্রেট নেই, তাই আমরা পূর্বের ন্যায় অভিযান করার মতো কঠোর হতে পারছি না। নির্মাণাধীন ভবন বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের আবদ্ধ পানিতে এডিস মশার লার্ভা পেলে জরিমানা করা হতো। কিন্তু এখন এটা হচ্ছেনা।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ







নবীনগরে শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রবাসীর লাশ উদ্ধার
৯ই ডিসেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:৪৪:২৫


নারায়ণগঞ্জ শহরে জলকামান মোতায়েন
৮ই ডিসেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৫৫:৪৭


ASIAN TV