• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বিকাল ০৪:৫৩:১৬ (30-Nov-2022)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু ভয়ংকর হচ্ছে; সচেতনতা জরুরী এখনই

১৩ই অক্টোবর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:১৮:২৫

প্রতীকী ছবি

লে. কর্ণেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

বিশ্বে প্রতিবছর ১০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে বাড়তে থাকে ডেঙ্গুর প্রকোপ।  এতে মৃত্যুর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ডেঙ্গু ভাইরাস সৃষ্ট মশা বাহিত রোগ। এই মশাগুলো সাধারণত দিনের বেলায় মানুষকে কামড়ায়। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত মশকীর রক্ত পানের মোক্ষম সময়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আক্রমণে তেমন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। প্রতি চারজনের মাঝে বলা যায় একজনের লক্ষণ দেখা দেয়। কারো দেখা দেয় মৃদু, কারো ভয়ানক লক্ষণ। মৃদু লক্ষণগুলো অন্য সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগের মতোই।

ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ:
ডেঙ্গুর সচরাচর যেসব লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো জ্বর, শরীরে ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখে বিশেষত চোখের পেছনের দিকে ব্যথা, মাংসপেশী, হাড় এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। রোগীদের কেউ কেউ বলে থাকে পেটানো ব্যথা। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে ব্রেক-বোন ফিভার-- হাড়ভাঙ্গা  জ্বর। চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ, ক্ষুধা মন্দা, বমি, পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, প্রচন্ড দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ ও প্রকাশ পায় ডেঙ্গু আক্রমণে। জ্বর, মাথাব্যথা এবং চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ এই তিনটিকে বলা যায় ডেঙ্গুর উপসর্গ-ত্রয়ী। বলা যায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান তিন উপসর্গ। এসব উপসর্গ সাধারণত দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এক সপ্তাহের মাঝে বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।

ডেঙ্গুর ভয়ানক বিপদচিহ্ন:
তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ভয়ানক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় ডেঙ্গুর আক্রমণে। যেগুলো তীব্রমাত্রার ডেঙ্গু নির্দেশ করে সেগুলো হলো পেটে ব্যথা, দিনে তিনবারের বেশি বমি হওয়া, নাক কিংবা দাঁতের গোড়া থেকে রক্তক্ষরণ, বমি কিংবা পায়খানার সাথে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট, প্রচন্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব, হঠাৎ করে আচরণগত পরিবর্তন, তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন, অনেক তাপমাত্রা থেকে হঠাৎ এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়া,  বিগত চার থেকে ছয় ঘন্টার প্রস্রাবে পরিমাণ কমে যাওয়া, রক্তের হেমাটোক্রিট ২০% কমে যাওয়া, রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা অত্যন্ত নিচে নেমে যাওয়া, লিভার বড় হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা:
ডেঙ্গুর কোন নির্ধারিত চিকিৎসা নেই। প্রকাশিত লক্ষণের চিকিৎসা করতে হবে রোগীদের। সেজন্য কারো ডেঙ্গু হলে করণীয় হলো পূর্ণ বিশ্রাম। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম গ্রহন করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। শরবত, ফলের রস, ডাবের পানি, সুপ, স্যালাইন পানি ও পানীয় পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ।
জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। এসপিরিন, আইবোপ্রোফেন কিংবা ব্যথা-বেদনা নাশক বড়ি গ্রহণ করবেন না। এগুলো ডেঙ্গুর রক্তক্ষরণ জনিত জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এন্টিবায়োটিকের এখানে কোন ভূমিকা নেই। 
ডেঙ্গু জ্বর চলে যাওয়ার ২৪ ঘন্টা পর যদি শরীর আরো বেশি খারাপ হতে থাকে তবে অবশ্যই সতর্ক হোন। রক্ত পরীক্ষা করে অনুচক্রিকা এবং হেমাটোক্রিটের পরিমাণ জেনে নিন। রক্তের অনুচক্রিকা কমতে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসুন।

তীব্র ডেঙ্গু হলে হাসপাতাল:
তীব্র ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ প্রকাশ পেলে বাসায় চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। মনে রাখবেন তীব্র ডেঙ্গু এক ধরনের মেডিকেল ইমার্জেন্সি। এসব রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা নিতে হবে। গড়ে প্রতি ২০ জনে একজন তীব্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। তীব্র ডেঙ্গুতে রক্তচাপ কমে রোগী শকে চলে যেতে পারে। এমনকি অসংখ্য অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে ভয়ানক ডেঙ্গুর আক্রমণে। রোগীর আভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে শুরু হতে পারে রক্তক্ষরণ। যাদের আগে একবার ডেঙ্গু হয়েছে তাদের দ্বিতীয় আক্রমণে তীব্র ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ডেঙ্গুতে অনুচক্রিকা কমে যায়:
ডেঙ্গু জ্বরে প্রায় সবারই রক্তের অনুচক্রিকা সামান্য কমে যায়। কারো কারো অনুচক্রিকা বিপদজনক ভাবে হ্রাস পায়। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে এই রোগে রক্তের এই কণিকা হু হু করে কমে যেতে পারে‌। সাধারণত জ্বর চলে যাওয়ার পর এমনটি হয়। বলা যায় জ্বর কমতে থাকে সাথে সাথে কমতে থাকে অনুচক্রিকা। অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে অকুস্থলে দল বেঁধে ছুটে আসে এরা। দেহের আরো অনেক উপাদানের সাহায্য নিয়ে এরা ত্বরিৎ গতিতে রক্তনালী আটকে দেয়। ডেঙ্গু বা অন্য কোন কারণে অনুচক্রিকা কমে গেলে সৃষ্টি হতে পারে রক্তক্ষরণ। চামড়ার নিচে, দাঁতের মাড়ি, নাক থেকে ঝরতে থাকে রক্ত। অনেক ক্ষেত্রে বমি, প্রস্রাব, পায়খানার সঙ্গে বেরোতে পারে রক্ত। নারীদের রজস্রাবের রক্ত ক্ষরণ বেড়ে যায়। এমনকি মস্তিষ্কে ও শুরু হতে পারে রক্তক্ষরণ। রক্তে অনুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ঘন মিলিমিটারে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ। সাধারণত চতুর্থ দিন থেকে দ্রুত কমতে থাকে এ রক্তকণিকা বা প্লাটিলেট।

অনুচক্রিকা কমলে করণীয়:
রক্তের অনুচক্রিকা কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক লাখের নিচে নেমে গেলে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এ সংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে ক্ষেত্র বিশেষে দিনে দুইবার রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে অনুচক্রিকা ও হেমাটোক্রিটের মাত্রা। মনে রাখতে হবে ডেঙ্গুতে কখনো কখনো সকাল বিকাল অনুচক্রিকার মাত্রায় ব্যাপক তারতম্য হয়ে থাকে। 
এ সময় শুরু হতে পারে পানি শূন্যতা। এটি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানীয়, শরবত, স্যালাইন ও পানি পান করাতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন দিতে হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসার অন্যতম প্রধান দিক হলো ফ্লুইড থেরাপি বা পানি চিকিৎসা। রক্তের অনুচক্রিকা দশ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিংবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্ত প্রদান করতে হয়। রক্তের অনুচক্রিকা বৃদ্ধির জন্য পেঁপে, পেপে পাতার রস, দুধ, ডালিম ইত্যাদি খেতে হবে। পেঁপে পাতার রস অনুচক্রিকা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

কখন রক্ত দিতে হবে:
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীকে রক্ত দিতে হবে কিনা তা নির্ভর করে চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের উপর। কোন কোন চিকিৎসক অনুচক্রিকা ২০ হাজারের নিচে নেমে গেলে আবার কেউ কেউ ১০ হাজার বা তার নিচে নেমে গেলে অনুচক্রিকা প্রদানের পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান করেন। তবে এই পরিমাণ ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে সতর্কতার জন্য রক্তদাতা যোগান রাখা উত্তম। প্রয়োজনে রক্ত লাগলে যাতে দ্রুততার সঙ্গে তা প্রয়োগ করা যায় সে ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরী। অনেক ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরাসরি অনুচক্রিকা প্রদান না করে রক্তের উপাদান বা প্লাজমা প্রদান করা হয়। এগুলো সবই নির্ভর করে রোগীর অবস্থা এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের উপর।

প্রতিরোধ:
তবে ডেঙ্গু চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের দিকে নজর দিতে হবে বেশি। পরিবেশকে রাখতে হবে মশক মুক্ত। মশকীর কামড় থেকে বাঁচাতে হবে নিজেকে এবং সমাজকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে কিন্তু তা সবার জন্য নয়। ডেঙ্গুর চারটি ধরণ রয়েছে। এর যে কোন একটিতে কেউ একবার আক্রান্ত হলে তিনিই শুধু ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। যারা ডেঙ্গুর কোন একটি প্রজাতি দ্বারা আক্রান্ত হয়নি তাদের এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভয়ানক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আর যারা ভ্যাকসিন নেবেন তারা বাকি তিন ধরণের ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

লে. কর্ণেল ডা: নাসির উদ্দিন আহমদ
মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডােক্রাইনােলজিস্ট,
সিএমএইচ

অনুলেখন- জ ই বুলবুল

সর্বশেষ সংবাদ

ওসি দিপুর কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন 
৩০শে নভেম্বর ২০২২ সকাল ১১:৩২:৩১


সাংবাদিক কন্যা মুবাশ্বিরা পেলেন জিপিএ-৫
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৪৫:৫৮

আমাদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়: লিপি ওসমান
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৩৭:৪৯

খুনিদের সাথে কিসের আলোচনা : শামীম ওসমান
২৮শে নভেম্বর ২০২২ রাত ০৮:২৪:৫৩

নৌ-যান শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘাট পালন 
২৮শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:২০:৩৪

শ্রীপুরে অনুমোদনহীন বিদেশী ঔষুধ উদ্ধার
২৮শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৩:০০:৫০

নারায়ণগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন
২৭শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:৫২:২০



ASIAN TV