• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বিকাল ০৫:১২:৪৯ (30-Nov-2022)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

রাজনীতি

নোয়াখালীতে ৯ মামলায় বিএনপির ৪,৩৮৫ নেতা-কর্মী আসামি

৩০শে আগস্ট ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:৪০:০৪

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সংঘর্ষের সময় লাঠি হাতে একপক্ষের কর্মীরা। গতকাল সোমবার বিকেলে গাজীরহাট মোড়ে

নোয়াখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কেন্দ্র করে বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দলটির ৪ হাজার ৩৮৫ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা চারটি মামলা করেছেন।

মামলার আসামির তালিকায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ এম এম মাহবুব উদ্দিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এসব মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া জেলায় চলমান বিশেষ অভিযানে আরও অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সুবর্ণচরে বিএনপির সমাবেশে জনসমাগম হয়েছিল আশাতীত। এতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রশাসনের চোখ কপালে উঠে যায়। তারা বিএনপির অন্যান্য উপজেলার কর্মসূচি বানচাল করার নীলনকশা করে। যার অংশ হিসেবে চাটখিল, সোনাইমুড়ী ও সর্বশেষ সেনবাগে বিএনপির বিক্ষোভে হামলা করে। সেনবাগের সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। তাঁকেও আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আবদুর রহমানের অভিযোগ, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এখন একই অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দিচ্ছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার জেলা শহরে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে শহরের জামে মসজিদ মোড় ও পৌর বাজারের সামনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগে দলটির জেলা সদস্য মো. হেলাল বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন। তিন মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানসহ ১ হাজার ৭৮৮ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ১৮৮ জন। বাকিরা সবাই অজ্ঞাতনামা। এই তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশের কোনো বাধা নেই। কিন্তু যেখানেই বিএনপির কর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, সেখানে পুলিশ জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

এরপর গত শুক্রবার চাটখিল উপজেলার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ওই সমাবেশে আসার পথে হামলায় আহত হন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হানিফ, সদস্যসচিব শাহজাহান রানাসহ কমপক্ষে ৩৫ জন নেতা-কর্মী। শুক্রবার বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। মামলা দুটিতে আসামি করা হয় ৩৪৯ জনকে। এর মধ্যে ১৯ জন এজাহারনামীয় আসামি। বাকিরা অজ্ঞাতনামা। এই দুই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত শনিবার বিকেলে সোনাইমুড়ী উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা করেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং আওয়ামী লীগের মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলাতেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ এম এম মাহবুব উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দুই মামলার এজাহারনামীয় আসামি ২৫০। বাকিরা অজ্ঞাতনামা। দুই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন।

সর্বশেষ গতকাল সোমবার সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট মোড় এলাকার একটি ইটভাটায় বিএনপির একাংশ (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারী) বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। একই সময় গাজীরহাট মোড়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে সমাবেশের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। বিকেল চারটার দিকে দুটি বিক্ষোভ মুখোমুখি হলে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও তিনটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের আটটি গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতে পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন ওরফে উজ্জ্বল বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।

ওই দুই মামলায় বিএনপির ১ হাজার ৩৪৮ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮ জন এজাহারনামী আসামি। আসামি করা হয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান ও সমাবেশের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানকেও। দুই মামলায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলো ঘটেছে। তারা আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। সর্বশেষ গতকাল সেনবাগে একটি কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। এ জন্য হামলার শিকার আওয়ামী লীগের নেতারা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

ওসি দিপুর কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন 
৩০শে নভেম্বর ২০২২ সকাল ১১:৩২:৩১


সাংবাদিক কন্যা মুবাশ্বিরা পেলেন জিপিএ-৫
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৪৫:৫৮

আমাদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়: লিপি ওসমান
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৩৭:৪৯

খুনিদের সাথে কিসের আলোচনা : শামীম ওসমান
২৮শে নভেম্বর ২০২২ রাত ০৮:২৪:৫৩

নৌ-যান শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘাট পালন 
২৮শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:২০:৩৪

শ্রীপুরে অনুমোদনহীন বিদেশী ঔষুধ উদ্ধার
২৮শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৩:০০:৫০

নারায়ণগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন
২৭শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:৫২:২০



ASIAN TV