• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯ রাত ১২:০২:২১ (01-Dec-2022)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

সারাবাংলা

নানা জ্বরে কাঁপছে দেশ, সতর্কতা ও করণীয় কী ?

২৯শে অক্টোবর ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:৩৯:১৫

ফাইল ছবি

অধ্যাপক ডা. মো: জাহাঙ্গীর আলম

ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, এদেশে বারো মাসে তের পার্বন। এদেশের প্রকৃতির রূপ ক্ষনে ক্ষনে বদলায়, এই গরম এই ঠান্ডা, কখনো ঠাটা রোদ, কখনোবা মুষলধারে বৃষ্টি। প্রকৃতির এই রূপবৈচিত্রের কারনে এখানকার সিজোনাল জ্বর বা ভাইরাস জ্বরের প্রকোপটা একটু বেশিই তাছাড়া সাথে যুক্ত হয়েছে ডেংগু জ্বর ।

কাদের বেশি হয়

এই পরিবর্তন ভাইরাস গুলো খুউব উপভোগ করে, আর ভিকটিম হয় মানুষ, বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন শিশু ও বৃদ্ধরা। মুলত তাদেরই হয় বেশি।

উপসর্গগুলো কি

শিশুদের এই ভাইরাস জ্বর সাধারনত সর্দি কাঁশি গলা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যাথা এবং অনেক সময় পাতলা পায়খানা এবং বমিও হতে পারে। ভাইরাস জ্বর নানা রকম ভাইরাস দিয়া হতে পারে যেমন, করোনা ভাইরাস, ডেংগু ভাইরাস, রাইনো ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেস্পাইরেটরী সিনসাইটিয়াল ভাইরাস ইত্যাদি। প্রত্যেকটা ভাইরাস জ্বরের লক্ষনও কিন্তু এক নয়। ডেংগু ভাইরাস জ্বরের লক্ষন সম্পুর্ন আলাদা।

ডেংগু জ্বরের প্রকোপ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ডেংগু জ্বরের প্রকোপ জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত যা ছিল তার চেয়েও এখন একটু বেশী। হাসপাতালগুলোতে রোগী হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেংগু জ্বরের প্রকোপ বেশী থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেংগু জ্বরের সময়কাল দীর্ঘ সময় নিয়ে, রাজধানীর বাইরেও বেড়েই চলছে ডেংগু ।

ডেংগু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে সূর্য উঠার কিছুক্ষন পর এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা রক্ত খাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা ভদ্র মশা হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে। এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিৎ। পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে- যেমন বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

সতর্কতা

সাধারণভাবে ডেংগু জ্বর ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। এই জ্বরের সাথে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, বিশেষ করে মাথার পিছনের দিকে এবং চোখের কোটরের ভিতর প্রচন্ড ব্যাথা, মেরুদন্ডে হাড়ের ভিতরও প্রচন্ড ব্যাথা করে। জ্বরের সাথে বমি বা বমি বমি ভাব, জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে, জ্বর ৪ দিন পরে হঠাৎ করে ছেড়ে দিতে পারে এবং জ্বর ছেড়ে দেওয়ার পর ৪৮ ঘন্টা থেকে ৯৬ ঘন্টা খুবই ক্রিটিকাল পিরিওড শিশুর জন্য, স্পেশালি মোটা বাচ্চাদের জন্য। এর পরে আবার জ্বরের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে। এই জ্বরবিহিন সময়টাতে শরীরে লাল লাল র‌্যাশ উঠতে পারে এবং এই র‌্যাশে প্রচন্ড চুলকানী হয় যা সাধারনত এন্টিহিষ্টামিন জাতীয় ঔষধে কাজ হয় না এবং এই চুলকানী তিন দিনের বেশী থাকে না। ডেংগু রোগীর জ্বর চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই ব্লাড প্রেশার কমে গিয়ে ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে চলে যেতে পারে। একজন ডেংগু রোগী যখন ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে চলে যায় তখন সেই রোগীকে স্বাভাবিক বেডে চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার সাপোর্ট এবং সার্বক্ষনিক স্পেশাল ট্রেইন্ড ডাক্তারের প্রয়োজন হয়, সেই সঙ্গে সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ের জন্য সারাক্ষন চিকিৎসকের উপস্থিতি জরুরী। সাধারন সর্দি জ্বর শিশুদের তেমন কোন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না। কিন্তু খুব ছোট শিশু এবং দুর্বল শিশুদের নানা ধরনের জটিলতা যেমন নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে নেবেন

এখন যেহেতু ডেংগুর সময়, সেজন্য জ্বর হলে অবহেলা করা উচিত নয় এবং সাথে-সাথেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

জ্বরের প্রথম তিন দিনের মধ্যে যদি আমরা একটি সাধারন টেস্ট ডেংগু ভাইরাসের এনএস১ এন্টিজেন টেস্টটা করে ফেলি তাহলে সহজেই আমরা বুঝতে পারবো ডেংগু নাকি অন্য জ্বর। সাধারন সর্দি জ্বর হলেও জ্বর যদি তিন দিনের বেশী স্থায়ী হয় এবং এর তীব্রতা বাড়তেই থাকে, প্রচন্ড কাঁশি এবং কাঁশির সাথে বুকের ভিতরটা দেবে যায়, শ্বাসের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হয় যেমন ২ মাসের কম শিশুর শ্বাসের গতি মিনিটে ৬০ বা তার বেশী, ২ মাস থেকে ১ বছরের কম শিশুদের ৫০ অথবা তার বেশী, ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ৪০ অথবা তার বেশী হলে কালবিলম্ব না করে বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।

এছাড়া সাধারন সর্দি জ্বরের জন্য বাসায় বিশ্রাম করতে হবে, প্যারাসিটামল, এন্টিহিষ্টামিন জাতীয় ঔষধ চিকিৎসকদের পরামর্শ মত সঠিক পরিমানে এবং সঠিক সময়ে খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম পানি দিয়া গা মোছানো এবং প্রচুর পরিমানে তরল শক্তিদায়ক খাবার খাওয়াতে হবে , সাথে সাথে বুকের দুধও খাওয়াতে হবে, কাশির জন্য কুসুম গরম লেবুর শরবত এবং বড় বাচ্চা হলে মধু দিয়া লেবুর চা খাওয়ালেই এটা সেরে  যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দরকার ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ, খেলাধুলা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রচুর পরিমানে পানি, ভিটামিন, প্রোটিন এবং মিনারেল জাতীয় খাবার খাওয়া। আমাদের শহরের বাচ্চাদের খেলা ধুলার প্রতি কোন টান নেই, শুধু স্মার্টফোনে গেম খেলা, ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবনতা অত্যন্ত বেশি বিধায় এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম থাকে, তাই এরা দ্রুত রোগাক্রান্ত হয়ে পরে।

তাই অভিবাবকদের উচিৎ নিজ নিজ সন্তানদের তাদের স্বার্থেই বর্হিমুখী করা, মাঠে খেলার প্রতি আকৃষ্ট করা, সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তোলা, আমাদের সময় যেমন অভিবাবকরা বাচ্চাদের কান ধরে মাঠ থেকে ঘরে ঢুকাতো, এখন সময় এসেছে বাচ্চাদের কান ধরে ঘর থেকে মাঠে পাঠানো। মনে রাখবেন আপনার সুস্থ শিশুই আগামীর ভবিষ্যৎ। 

অধ্যাপক ডা.মো. জাহাঙ্গীর আলম
পরিচালক , বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট, শ্যামলী।

সর্বশেষ সংবাদ



ওসি দিপুর কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন 
৩০শে নভেম্বর ২০২২ সকাল ১১:৩২:৩১


সাংবাদিক কন্যা মুবাশ্বিরা পেলেন জিপিএ-৫
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৪৫:৫৮

আমাদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়: লিপি ওসমান
২৯শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৫:৩৭:৪৯

খুনিদের সাথে কিসের আলোচনা : শামীম ওসমান
২৮শে নভেম্বর ২০২২ রাত ০৮:২৪:৫৩

নৌ-যান শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি নিয়ে ধর্মঘাট পালন 
২৮শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৬:২০:৩৪

শ্রীপুরে অনুমোদনহীন বিদেশী ঔষুধ উদ্ধার
২৮শে নভেম্বর ২০২২ বিকাল ০৩:০০:৫০

নারায়ণগঞ্জে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন
২৭শে নভেম্বর ২০২২ সন্ধ্যা ০৭:৫২:২০

ASIAN TV