• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৩শে মাঘ ১৪২৯ রাত ১০:৩১:৩৮ (05-Feb-2023)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও

২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রণোদনার চাল পায়নি ভোলার জেলেরা

মোঃ বিল্লাল হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি: দেশের নদ-নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে ভোলার তিন লাখেরও বেশি জেলে। আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত এসব জেলেরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনার চাল নিষেধাজ্ঞার দু’সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও পায়নি। ২/১ টি ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হলেও অধিকাংশ ইউনিয়নে এখনো চাল পৌঁছায়নি।বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে এসব জেলেদের। অন্যদিকে নিবন্ধনের আওতায় আসতে না পারায় লক্ষাধিক জেলে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ বলছে, নির্ধারিত জেলেদের মাঝে শীঘ্রই চাল পৌঁছে দেয়া হবে।ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসূমে মা ইলিশ যাতে অবাধে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সকল মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। আইন অমান্য করে যারা মাছ শিকার করছে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। দেয়া হচ্ছে কারাদন্ড, অর্থদন্ড কিংবা উভয়দন্ড। বেকার জেলেদের সংসার নির্বাহের জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা হিসাবে বরাদ্দ করা হয়েছে জেলে প্রতি ২৫ কেজি চাল। কিন্তু সেই চাল না পেয়ে নিতান্ত পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছে অনেক জেলে। জেলেরা বলছে, ২২ দিনের মতো দীর্ঘ একটা সময় আয়-রোজগার না থাকার পাশা-পাশি সময়মতো সরকারের প্রণোদনা না পাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে তাদের সংসার জীবন।জেলেদের অভিযোগ, শুধু এবারই নয়; প্রতিবারই স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে তারা সঠিক সময়ে চাল পাননা। জেলেবৃত্তি ছাড়া অন্য কোন কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রতিবছরই তাদেরকে এমন দুর্বিষহ কষ্টের শিকার হতে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া হলে এমন পরিণতি হয় না বলেও মন্তব্য জেলেদের।জেলে মো: নূরে আলম বলেন, অনেকদিন ধরে অভিযান চলছে। সরকার আমাদেরকে কোন সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। কোন চাউল বা কিছুই দেয়নি, তাই আমরা খুব অভাবে আছি। সরকার অন্তত চাউলটা দিলেও তো আমরা বাড়ি গিয়ে অন্তত ভাত খাইতে পারতাম।জেলে মোঃ মনির বলেন, সরকার ২২ দিনের যে অভিযান দিছে, এই অভিযানের আগেই চাউল টা দিলে আমাদের জেলেদের অনেক ভালো হইতো। চাউলটা তো দিলো না। তাই বউ-বাচ্চা, পরিবার নিয়ে আমারা এখন না খেয়ে মরণ ছাড়া আর কোন উপায় নাই। এছাড়া ঋণ কিন্তু আছেই। তাই সরকার যদি আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিতো তাইলে ভালো হইতো।ভোলা সদরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: জামাল হোসাইন জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই সব ইউনিয়নের নির্ধারিত জেলেরা চাল পেয়ে যাবে। নিবন্ধন না থাকায় সকল জেলেকে চাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তীতে সকল প্রকৃত জেলেদেরকে নিবন্ধনের আওতায় এনে চাল দেয়া হবে।ভোলায় ৩ লাখেরও বেশি জেলে মৎস্য শিকারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এদের মধ্য থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩ শত ৭২ জনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এবার ১ লাখ ৩২ হাজার জেলের জন্য প্রণোদনার চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ASIAN TV