• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৪ঠা কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ০৭:৫৮:৫৫ (19-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

বিশ্বজুড়ে অভিবাসনযাত্রায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজারের বেশি শিশু

১৭ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:৩০:২৭

বিশ্বজুড়ে অভিবাসনযাত্রায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজারের বেশি শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৪ হাজার ৪১৪ শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক দুর্ঘটনায় নিহত বা নিখোঁজ শিশুদের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন অভিবাসনপথে প্রাণ হারানো ও নিখোঁজ হওয়া মানুষের তথ্য সংগ্রহ করছে আইওএমের নিখোঁজ অভিবাসীবিষয়ক প্রকল্প। সংস্থাটির তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পথগুলোর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসনপথের কথা উঠে এসেছে।

এই পথে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত, সাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও অভিবাসনপ্রত্যাশী শিশুরা নানা বিপদের মুখে পড়ছে। নৌকাডুবি, চরম তাপমাত্রা, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন

কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, হতাহত একাধিক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ অভিবাসীদের অনেকেরই বয়স, লিঙ্গ ও পরিচয় নির্ধারণ করা যায়নি। ফলে নথিবদ্ধ পরিসংখ্যানে শিশুদের প্রকৃত মৃত্যুর চিত্র পুরোপুরি উঠে আসেনি। বিশেষ করে সমুদ্রপথে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া শিশুদের অনেকের তথ্যই অজানা থেকে যায়।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২ জনের বয়স সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এই তালিকায় কত শিশু রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে ইতালি ও মাল্টায় পৌঁছানো অভিবাসীদের ১৯ শতাংশ ছিল শিশু। কিন্তু ওই পথে নথিবদ্ধ মৃত্যুর মাত্র ২ শতাংশকে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যবধান থেকে শিশুদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যথাযথভাবে নথিবদ্ধ না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

ইরানের সংসদে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচি

সরকারি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যের সীমাবদ্ধতাও এ ক্ষেত্রে বড় সমস্যা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের মৃত্যু সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের একটি ছোট অংশই সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া যায়। বাকি তথ্যের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা, সংবাদমাধ্যম এবং দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

আইওএমের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক শিশু ও তাদের পরিবার বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ অভিবাসনপথ বাড়ানো, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা জরুরি।

প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অভিবাসনপথে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বয়স, পরিচয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ভারতের সিইসির পদত্যাগের দাবিতে এবার লন্ডনে বিক্ষোভ, ছিলেন ধ্রুব রাঠি

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এটিভি/এসআইআর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়
আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়
১৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫১:৩৩