বিনোদন ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর দেড় দশকের কাছাকাছি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের আবেদন আজও অমলিন।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর পৈতৃক গ্রাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভক্ত, পাঠক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। চ্যানেল আইয়ে হুমায়ূন আহমেদের গান, নাটক এবং তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে ঘিরে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয়েছে ‘গান দিয়ে শুরু’ এর বিশেষ পর্ব। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ‘এবং সিনেমার গান’ অনুষ্ঠানে রয়েছে তাঁর গানের পরিবেশনা। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হবে ইফতেখার মুনিমের প্রযোজনায় বিশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠান ‘প্রয়াণের একযুগ পর আমরা’, যেখানে অংশ নেবে তাঁর নাটক ও উপন্যাসের জনপ্রিয় চরিত্রগুলো।১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর পৈতৃক বাড়ি একই জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। পরে বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ।তাঁর বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি শহীদ হন। মা আয়েশা ফয়েজ ছিলেন লেখক। সাহিত্যচর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা হুমায়ূন আহমেদের দুই ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবও দেশের খ্যাতিমান লেখক।কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেন। পরে সাহিত্য ও চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ণসময়ের জন্য অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে তাঁকে পাঠকমহলে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, দেয়াল, মাতাল হাওয়া, কবি ও লীলাবতীসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গ্রন্থ রচনা করেন তিনি।তাঁর সৃষ্ট হিমু, মিসির আলী ও শুভ্র বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠকের কাছে এসব চরিত্র শুধু গল্পের নয়, একেকটি জীবনদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।টেলিভিশন নাটকেও হুমায়ূন আহমেদের অবদান অনন্য। এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই এবং আজ রবিবারসহ তাঁর একাধিক নাটক বাংলা নাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও তিনি সফল ছিলেন। তাঁর পরিচালিত আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন এবং ঘেঁটুপুত্র কমলা দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে।সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার এবং হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।মৃত্যুর ১৪ বছর পরও হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। সহজ অথচ গভীর ভাষাশৈলী, অনন্য গল্প বলার ক্ষমতা এবং কালজয়ী চরিত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
১৯ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৩:৪২:৪৪