রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনিয়মের একের পর এক তথ্য প্রকাশ হতে চলেছে। কার্যালয়ের যোগসূত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক সমিতি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় নেতাদের মদদে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা না না কৌশলে লোপাট করেছেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে সচিবালয়ের কোনো এক শক্তির বলে এই শিক্ষা অফিসার দাপটের সঙ্গে চাকরি করে আসছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ছায়া ক্ষমতার বলেই তার শক্তি ও বাহুবল।
চারঘাট উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শিক্ষক নেতারা অভিযোগ তুলে বলেন, বর্তমান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার গত ২৩ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে তিনি বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। সরকারি বরাদ্দ (স্লিপের টাকা) থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করেছেন। মূলত স্লিপের টাকা উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক খরচের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। যা দিয়ে বিদ্যালয়ের ছোট ছোট মেরামত, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার সামগ্রীসহ বিনোদন সক্রান্ত বাবদ খরচ করা হয়। তবে এই অর্থগুলো প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে জান যায়, উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মনগড়া উত্তর যেন শিক্ষা অফিসারের পক্ষ নিচ্ছে কখনও বা বিপক্ষে। স্লিপের অর্থগুলো শিক্ষা দপ্তর থেকেই কমতে শুরু করে। তারপর চলে যায় স্কুল কমিটি, তৃতীয় পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের প্রাপ্তি।
নাম না প্রকাশের শর্তে অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ছাত্র সংখ্যার উপর ভিত্তি করে স্লিপের টাকা বিতরণ হয়। তবে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিদ্যালয় পাচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া যাদের বরাদ্দ ৭০ বা ৮০ হাজার, তারা পাচ্ছেন ৩৫ হাজার টাকা। অডিটে খরচ করতে হবে বলে শিক্ষা অফিসার টাকা নিয়েছে। কেউ বা বলেছেন টাকা চেয়েছিল তারা দেননি। নানা অজুহাত আর মিথ্যার মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
শিক্ষক সমিতির অর্ন্তভুক্তরাও বলেন, বাৎসরিক এই খরচগুলো বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে গেলে শিক্ষা অফিসারকে উৎকোচ দিয়ে স্লিপের টাকা নিতে হয়। তথ্যমতে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। গত ২ বছর যাবত স্লিপের টাকা নিয়েছেন তিনি। যার প্রাথমিক খরচা করলে দেখা যায় লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করেছেন শিক্ষা অফিসার। পরিশেষে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, অর্থ লোপাটের বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ঈর্ষা থেকে তারা অভিযোগ আনছেন। এই উপজেলায় যোগদান করার পর ২ বার স্লিপের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে উপজেলায় যে সকল বিদ্যালয়ে ২শত নিচে শিক্ষার্থী আছে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা, ২শত থেকে ৩শত ছাত্র সংখ্যার জন্য ৭০ হাজার টাকা এবং ৬শত বা তার বেশি শিক্ষার্থী থাকলে ৮০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্লিপের টাকার বিষয়ে শিক্ষা অফিসার জানান, তবে কিছু দিনের মধ্যে তৃতীয় ধাপে স্লিপের টাকা বিতরণের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2025, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available