ববি প্রতিনিধি: আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গোপন সিন্ডিকেট সভা আহবানের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একদল শিক্ষার্থী।
১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের বাসভবনে সামনে গিয়ে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয় এবং উপাচার্যের বাসভবন ও কার্যালয়ে তালা দিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তুলে তারা।
উপাচার্যের সুবিধার জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রেজিস্ট্রারকে বহাল রাখা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আগাম জামিন পাওয়া, নিয়মবহির্ভূতভাবে দু'জন সিন্ডিকেট সদস্যকে বাদ দিয়ে চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নিয়ে পাতানো গোপন সিন্ডিকেটের নাটক মঞ্চস্থ করা, আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের স্বপদে বহাল রেখে মূল পদে আনার পাঁয়তারা চালানো। গত ছয় মাসেও ২২ দফার কোনরকম প্রতিফলন করতে ব্যর্থ হওয়া, ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের অবাধ বিচরণ, মাদক সেবন ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়া হওয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তোলে তারা।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৪৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই সিন্ডিকেট সদস্যকে তাদের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ববি উপাচার্যের বিরুদ্ধে। পরে শিক্ষকদের পাঁচটি প্রতিনিধিত্বশীল পদ শূন্য রেখে শুক্রবার সিন্ডিকেট সভার আহবান জানান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সিন্ডিকেট সভা বন্ধ করতে এবং তাদের পছন্দের শিক্ষককে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ করতেই এই আন্দোলন। তবে, আরেকটি পক্ষের দাবি, পুরনো আওয়ামী সিন্ডিকেট বাতিল করে নতুন সিন্ডিকেট তৈরির প্রস্তাব দিলেও উপাচার্য সেই কথা বিবেচনায় না নিয়ে পুরনো সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে সিন্ডিকেট সভার আহবান জানান যা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের শামিল।
এসকল বিষয় নিয়ে একটি সূত্রের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন হচ্ছে কিনা এ বিষয় মন্তব্য করতে চাই না। তবে হঠাৎ উপাচার্যকে পদত্যাগ করানোর জন্য একেকটা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে একেকটা পক্ষ। প্রায় দুমাস আগেও উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়েছিলো আরেকটি পক্ষ। আলোচনায়ও বসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য যদি সত্যি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করে থাকে, তাহলে সকল শিক্ষার্থীরা মিলে পদত্যাগের দাবি ওঠানো যায়। কিন্তু একেক সময় আলাদা আলাদা পক্ষ কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করা ঠিক হবে না। তাতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ আনা হচ্ছে যেটার কোন যুক্তি নেই, এটা ভিত্তিহীন। শিক্ষার্থীরা একটা প্রমাণও দিতে পারবে না। একেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা অস্থিতিশীল করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। যখনি পরিবেশ ঠিক হচ্ছে এবং বিশ্বিবদ্যালয়ের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তখনি আমাকে বেকায়দায় ফেলে পরিবেশ ঘোলাটে করছে একেক পক্ষ। আমি ২২ দফা নিয়েও কাজ করছি, যেটা সকল শিক্ষার্থীরা দেখছে। এটা পরিপূর্ণ করা তো সময়ের ব্যাপার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, চাকরির মেয়াদ শেষ হলে উপাচার্য আমার পিআরএল স্থগিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে আমাকে রেখেছে। রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বের বিষয়টিও সিন্ডিকেটে উঠানোর কথা আছে। আমার একবিন্দুও থাকার ইচ্ছা নেই। আজকে কর্তৃপক্ষ বললে আজকেই চলে যাবো। এককভাবে আমাকে শিক্ষার্থীরা দোষারোপ করছে সেটা যথাযথ নয়। আমি মনে করি, হয়তো তাদের কেউ ভুল বুঝিয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2025, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available