রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা- ২০২৪ এর চূড়ান্ত পর্বে শহীদ হবিবুর রহমান হলকে হারিয়ে জয়ী সৈয়দ আমির আলী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা দফতর এই আয়োজন করে।
২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় এই আয়োজন শুরু হয়।
জানা যায়, সংসদীয় পদ্ধতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় নক আউট, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল পর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পায় শহীদ হবিবুর রহমান হল ও সৈয়দ আমির আলী হলের বিতার্কিকরা।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামানিক।
বিতর্ক শেষে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। তিনি বলেন , আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কল্যাণমূলক জ্ঞানে অংশীদার করতে। তথ্যবহুল জ্ঞানের মাধ্যমে বিতর্ক হয়। প্রতিবছর আমরা চেষ্টা করব বিতর্ক প্রতিযোগিতা করার। শিক্ষার্থীদের অমিত সম্ভবনাকে বেড়িয়ে আনতে হবে। নৈতিকতা, আবেগ এবং যুক্তির মাধ্যমে বিতর্ক হয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা এ বিষয়গুলো খেয়াল করবে ।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রমানিক বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে নিজের গবেষণালব্ধ জ্ঞান সবার মাঝে প্রকাশ করতে পারে। কথা বলার মাধ্যম শিক্ষার্থীরা তর্ক করার ক্ষমতা আয়ত্তে আনতে পারবে। আমাদের চেতনা, পরিকল্পনা এবং উপলব্ধির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার মানকে আরও উন্নত করতে পারব।
সমাপনী বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের একত্রিত করেছিলাম তা সফল হয়েছে। আমাদের সমাজের যে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে বের করে তাদের গৌরবোজ্জল ইতিহাসে ফিরিয়ে আনতে এ প্রচেষ্টা। মানবিক এবং সহনশীল মানুষ সৃষ্টির জন্য আমরা শিক্ষার্থীরা কাজ করে যাবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমরা একটি প্রাণবন্ত বিতর্ক উপভোগ করলাম। তাদের যুক্তি বা জ্ঞান কয়েকদিনের পড়াশোনায় হয়নি বরং দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মুক্তিযুদ্ধো বিরোধী দলগুলো সক্রিয় ছিল তখন আমরা কথা বলার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা করেছিলাম। বিতর্কের মধ্যে দিয়ে আমাদের পরিকল্পনা, চেতনা এবং জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘঠছে। আমরা সামনের দিন থেকে তারুণ্যের সৃজনশীল ক্যাম্পাস গড়ে তুলব।
বিতর্কে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন, বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ফওজিয়া আদিবা ফ্লোরা,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাতিল সিরাজ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলের হলের বিতার্কিকদের নিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। যেখানে প্রতিটি হল থেকে ৫ জন বিতার্কিক মিলিয়ে সর্বমোট ৮৫ জন অংশগ্রহণ করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2025, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available