• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৬ই চৈত্র ১৪৩১ রাত ০৯:৪৪:৫৫ (30-Mar-2025)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৬ই চৈত্র ১৪৩১ রাত ০৯:৪৪:৫৫ (30-Mar-2025)
  • - ৩৩° সে:

কৃষি

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম, ফসলহানির আশঙ্কা কৃষকদের

২৭ মার্চ ২০২৫ বিকাল ০৪:১০:৪৫

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম, ফসলহানির আশঙ্কা কৃষকদের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্নের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদ। তবে দ্বিতীয় দফা সময় চলে গেলেও কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো অরক্ষিত সুনামগঞ্জের বেশ কিছু হাওরের বোরো ফসল। 
কাগজে-কলমে কাজ প্রায় শেষ এমনটাই দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের, তবে বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের কাজ না হওয়ায় বৃষ্টিপাত শুরু হলেই আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরেও সুনামগঞ্জের ৫৩টি হাওরে ৫৮৮ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। এদিকে কৃষকদের স্বার্থে বোরো ফসলরক্ষায় মোটা অঙ্কের এ বরাদ্দ দেয়া হলেও এ সময় সরকারি বরাদ্দের টাকা হরিলুট চালান বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা। বাঁধের কাজে চলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। দায়সারাভাবে কাজ করে লুটপাট করা হয় সরকারের কোটি কোটি টাকা।

হাওর অধ্যাসিত জেলা সুনামগঞ্জ। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে পরিবার নিয়ে বছরটা ভালো কাটে এ অঞ্চলের মানুষের। আর কোনো কারণে ফসলহানি ঘটলে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না।

তাইতো চলতি বছর ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে অসন্তুষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় ফসলহানির শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। কেননা এ বছর বাঁধের কাজে অনিয়ম হয়েছে বেশি। বালি মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ, ঠিকমতো স্লুপ, দরমুজ না দেওয়াসহ রয়েছে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ।  

এদিকে বাঁধের কাজে বেশি অনিয়ম হয়েছে দেয়ারাবাজার উপজেলায়। পাহাড়ি চিলাই নদী  নিকটবর্তী হওয়ায় এসব বাঁধগুলো টেকসই হওয়ার কথা থাকলেও বালি মাটি দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বেশ কিছু বাঁধের কাজ। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা স্থানীয় কৃষকদের। এছাড়াও বেশ কিছু বাঁধে দায়সারাভাবে কাজ করে নামেমাত্র মাটি ফেলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা।

দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষক আব্দুল হাসিম বলেন, বাঁধের কাজে অনেক অনিয়ম হচ্ছে এ যেন দেখার কেউ নেই। বালি মাটি দিয়ে অনেক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ধ্বসে পড়ে আমাদের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, হাওরে জামি না থাকলেও ৪৩ নম্বর পিআইসির সভাপতি করা হয়েছে জামাল মিয়াকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমনটা হয়েছে। ওই সভাপতির হাওরে জমি নেই বলে কৃষকের ফসল রক্ষায় কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। নিজের পকেট ভারী করতে দায়সারা কাজ করছে। যদি কোন কারণে ফসলহানি ঘটে তাহলে এসব অনিয়মের দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

কৃষক জহির আলী বলেন, ৪২ নম্বর পিআইসিতে তিন হাজার ডিআই বস্তা দেয়ার কথা ছিল। তবে পিআইসির সভাপতি সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কাজ করে চলে যান। তাকে জিজ্ঞেস করলে বরাদ্দ শেষ বলে আমাদের হুমকি ধামকি প্রদান করে। আমরা অসহায় মানুষ তাই নীরবে সহ্য করি। এই বাঁেধ ফসলতো ঠিকবেই না আমাদের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাহাড়ি ঢলে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পওর বিভাগ-২ মো. ইমদাদুল হক জানান, দোয়ারাবাজারে বাঁধের কাজ পরিদর্শনকালে কিছু কিছু বাঁধ বালি মাটি দিয়ে তৈরির সত্যতা পেয়েছি। সংশ্লিষ্টদের এব্যপারে অবহিত করা হয়েছে। যদি তারা সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ







চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ
৩০ মার্চ ২০২৫ সন্ধ্যা ০৬:৪৬:০০

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক
৩০ মার্চ ২০২৫ সন্ধ্যা ০৬:৩৮:১৮