ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজের গর্ভের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়ে নিভে গেছে ফারজানা (৩৬) নামে এক প্রসূতির।
৬ ফ্রেবুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারজানা বেগম উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ডের বাসুদেবপুর গামের মো. সুমন খানের স্ত্রী। ফারজানা বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানার মৃত মোস্তফা মাদবরে মেয়ে।
ফারজানার স্বামী সুমন খান জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় প্রসব বেদনা নিয়ে ফারজানাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেন ফারজানা। তার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় ফারজানার।
পরিবারের দাবি, নার্সদের হাতে ডেলিভারির পরই মারা যান ওই প্রসূতি। এ সময় হাসপাতালে কোনো ভালো চিকিৎসক ছিলেন না। চিকিৎসক থাকলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেতো।
তবে, ফারজানার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের মধ্যে একেকজন একেক ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন।
নিহতের বোন মাহমুদা বেগম জানান, চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলার কারণে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাদের বিচার চাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ সাদিয়া ইসলাম বলেন, ফারজানার ডেলিভারির সময় আমি দায়িত্বরত ছিলাম। ফারজানার শরীরে রক্তের পরিমাণ অনেক কম ছিল। এটি তার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে দেখেছি। রক্তশূন্যতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি ডাক্তার সোমা ইসলাম ফারজানার ডেলিভারির সময় চিকিৎসক না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে ৪-৫টি নরমাল ডেলিভারি হয়। এসব ডেলিভারি সবই মিডওয়াইফরা (স্পেশাল নার্স) করে থাকেন। তারা এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ সময় চিকিৎসকের কোনো প্রয়োজন হয় না।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাসির উদ্দিন জানান, চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জেনেছি রোগীর অবস্থা ভালোই ছিল। আমরা স্ববাবিকভাবেই নরমাল ডেলিভারি করেছি। একপর্যায়ে তার ব্লিডিং শুরু হলে তাদেরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান ইবনে আমিন জানান, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি রোগীর অবস্থা ভালো ছিল। স্বাভাবিকভাবেই নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রসূতির ব্লিডিং শুরু হলে তাদেরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মা মারা যায়নি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও চিকিৎসকের যদি কোনো ভুল থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2024, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available