আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে স্বামী ইমন সরদারের নির্যাতনে স্ত্রী জুবায়রা আক্তার জান্নাতি (১৭) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূর বাবা সাংবাদিক সুমন রসিদ এমন অভিযোগ করেছেন।
বাবা সুমন রসিদ জানান, আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে নাটক করছে। ঘাতক স্বামী ইমন সর্দার স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে। ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে আমতলী পৌরসভার পল্লি বিদ্যুৎ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের আমতলী সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি সুমন রশিদের কন্যা জুবায়রা আক্তার জান্নাতিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক বছর আগে গোপনে বিয়ে করেন নাচনাপাড়া গ্রামের আল আমিন সরদারের ছেলে ইমন সর্দার। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী জান্নাতিকে যৌতুকসহ নানা অযুহাতে নির্যাতন করে আসছে তার স্বামী।
বাবা সুমন রসিদ জানান, শুক্রবার বিকেলে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রী জান্নাতিকে স্বামী ইমন মাথার চুল কেটে দেয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায় স্বামী ইমন সর্দার স্ত্রী জান্নাতিকে বেধড়ক মারধর করে। ওই মারধরে তিনি মারা যায়। মৃত ভেবে স্বামী ইমন স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে সে মরদেহ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক জান্নাতির মৃত্যু নিশ্চিত করলে মরদেহ রেখে ইমন পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। স্বামী ইমন সর্দার আমতলী পৌরসভা পল্লি বিদ্যুৎ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। ২১ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ জান্নাতির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিন বিকেলে বাবার পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, স্বামী ইমন স্ত্রী জান্নাতিকে প্রায়ই নানা অযুহাতে মারধর করতো। শুক্রবার বিকেলে ইমন স্ত্রী জান্নাতির মাথার চুল কেটে দেয়। এর প্রতিবাদ করে জান্নাতি। স্ত্রী জান্নাতিকে বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্ত্রীকে মৃত ভেবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে। পরে নিজেই স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বাবা সুমন রসিদ আরও জানান, আমার মেয়ে জান্নাতিকে বিয়ের পর থেকেই জামাতা ইমন সর্দার প্রায়ই নির্যাতন করতো। আমাকে মেয়ে বেশ কয়েকবার ফোনে জানিয়ে। কিন্তু আমি মেয়ের কথা আমলে নিইনি। শুক্রবার বিকেলে আমার মেয়ের মাথার চুল কেটে দেয় ইমন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করলে শ্বশুর-শাশুড়ির নির্দেশে স্বামী ইমন বেধরক মারধর করে। এতে আমার মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মৃত্যু ভেবে আমার মেয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
স্বামী ইমন সর্দার স্ত্রীকে হত্যার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, দাম্পত্য কলহের জের ধরে আমি আমার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি। এ ঘটনায় আমার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে। এক পর্যায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মনিরুজ্জামান খাঁন বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই জান্নাতির মৃত্যু হয়েছে।
ওসি (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2024, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available