ম্যারাডোনার মৃত্যুর নাটকীয় মোড়, দেহরক্ষী গ্রেফতার
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২০ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার ও সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়াগো ম্যারাডোনা। তখন তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মারা গেছেন ম্যারাডোনা। এছাড়াও মৃত্যুর অন্যতম কারণ কোকেন এবং অ্যালকোহল বলে উল্লেখ করেছিলেন তার চিকিৎসকরা।তবে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে তার, এমন অভিযোগে ডাক্তার-নার্সসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ম্যারাডোনার মেয়ে জানা ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুর সাড়ে চার বছর হয়ে গেলেও মৃত্যুরহস্য নিয়ে জটিলতা কাটেনি। এটি আসলে মৃত্যু, নাকি হত্যা-তা নিয়ে সবার মধ্যে রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।চলতি মাসে ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদরোর আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোয় তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন যে আট জন, তাদের মধ্যে সাত জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। তারই অংশ হিসেবে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ম্যারাডোনার সাবেক দেহরক্ষীকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে।বুয়েনস আইরেসের সান ইসিদ্রোতে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেহরক্ষী জুলিও কোরিয়াকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ম্যারাডোনা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন তার দেহরক্ষী জুলিও সেই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, তিনি দায়িত্বের অবহেলা করেছিলেন। যদিও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে বলা হয়েছে যে, তিনি ম্যারাডোনার জ্ঞান ফেরোনার চেষ্টা করেছিলেন। দায়িত্বে অবহেলা করেননি। তবু জ্বলিওকে আটকের পর নতুন করে মোড় নিয়েছে ম্যারাডোনার মৃত্যুরহস্য।ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে যে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন একজন নিউরোসার্জন, একজন মনোরোগবিদ, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, একজন নার্স কো-অর্ডিনেটর, একজন চিকিৎসক এবং রাতের পালার নার্স। দিনের বেলায় মারাদোনাকে দেখভাল করতেন যে নার্স, তার বিচার করা হবে আলাদাভাবে। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ৮ থেকে ২৫ বছরের জেল হতে পারে। এ মামলায় প্রায় ১২০ জনের সাক্ষ্যদানের কথা রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে শেষ হতে পারে বিচারকাজ।