নিজস্ব প্রতিবেদক: মরহুম তানিফা আহমেদ ছিলেন জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক ও বীর সেনানী; তার এ বীরত্ব গাঁথা দেশ ও জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরে মরহুম তানিফা ও পরে তার নিহত মামা শামীমের বাসায় পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় সমবেত স্বজনদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্রগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন ও চট্রগ্রাম মহানগরী আমীরের সাথে একান্তে কথা বলেন এবং চিকিৎসার জন্য তার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মিরপুর মডেল থানার সহ-মুখপাত্র তানিফা আহমেদ তার মামা শামীম সহ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন-ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত ২ এপ্রিল সকাল ৭টায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন প্রাণ হারান। চট্রগ্রাম থেকে ফেরার পথে তানিফা ও তার মামা শামীম, মামী, ২ মামাতো বোন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে শামীমের এক বন্ধু তার স্ত্রী সহ ও আরেকজন বন্ধু এবং ড্রাইভার সহ একই পরিবারের ৬ জন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
এ সময় মহানগরী আমীরে সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের গণমানুষের নেতা কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমীর আশরাফুল আলম ও পল্লবী জোন প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি নাসির উদ্দিন সজল প্রমূখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, মরহুম তানিফা আহমেদ স্বৈরাচার ও ফ্যাসীবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়িভাবে স্থান করে নিয়েছেন। তার এ ঐতিহাসিক অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মরহুম তানিফা সহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সকলের রূহের মাগফিরাত কামনা করে সকলকে জান্নাতের আ’লা মাকাম দানের জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া করেন। মহানগরী আমীর তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের সবরে জামিল ধারণের তাওফিক কামনা করেন।
তিনি বলেন, মৃত্যু যেভাবেই হোক তা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ি নির্ধারিত সময়েই হয়ে থাকে। আর দুর্ঘটনাতে কারো কোন হাত নেই। মরহুম তানিফা আহমেদ ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ ও গর্বিত সন্তানদের মধ্যে একজন। তার দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সফরে দেশ ও জাতির যে অনন্য সাধারণ অবদান রেখেছেন তা আমরা কখনোই বিস্মৃত হবো না। তাই শোক কাতর না হয়ে আমাদেরকে মরহুমের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি নিহত পরিবারের পাশে থাকতে সম্ভব সবকিছু করার আশ্বাস প্রদান করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2025, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available