অনলাইন ডেস্ক: আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের শেষ সময়ে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে এবং নিজেদের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে জোরেশোরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। অপরদিকে ভূল্লী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট চাইছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর শেষ হবে নির্বাচনি প্রচারণা। ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
এদিকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রস্তুত প্রশাসন। এই নির্বাচনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ কর্মকর্তা কাজ করবেন নির্বাচনি মাঠে।
উভয় প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, তুলে ধরছেন এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা। তবে এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভোটারদের বড় একটি প্রত্যাশা- সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময় নেওয়া উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া।
সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ প্রার্থী। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে। প্রচারণায় দুই প্রার্থীই এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
চায়ের দোকান, বাজার কিংবা পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু উপনির্বাচন। কে হবেন এলাকার নতুন জনপ্রতিনিধি, কে পারবেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ভোটারদের অনেকে মনে করেন, শুধু নতুন প্রকল্পের ঘোষণা নয়, আগে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে নতুন সংসদ সদস্যের অন্যতম দায়িত্ব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেন। এতে আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা স্থানীয়দের।
সদর উপজেলার ভোটারদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যেন মাঝপথে থেমে না যায়। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা। তাদের মতে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি।
নতুন উপজেলা হিসেবে ভূল্লী ও রুহিয়াকে ঘিরেও রয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তর চালু, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ সহজ করা এবং বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষিপ্রধান এলাকার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে ভোটারদের আলোচনায়।
উন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের ভাবনায় রয়েছে রাজনৈতিক বাস্তবতাও। তাদের একটি অংশ মনে করে, সরকারি দলের সংসদ সদস্য হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় করা তুলনামূলক সহজ হবে। এ কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের প্রতি তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ভোটারদের মতে, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধির আন্তরিকতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
এটিভি/ এইচকে
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available