মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের পীর-ফকির, সুফি সাধক ও বাউলদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেছেন, একটি পক্ষ সুফি সাধকদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে হবে।
৩১ অক্টোবর শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের হাজীপুর দরবার শরিফে ‘দয়াল বাবা আবুল চান হাজীপুরী স্মরণে ভক্ত মেলা ও বিশেষ সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এখানে পীর-ফকির, সাধক ও বাউলদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। আমরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী, মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী। যার যার ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান সে পালন করবে। সবাই মিলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও দরবার শরিফ ভাঙচুর, কবর থেকে মরদেহ তুলে নির্যাতন ও পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অপকর্ম প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাধক ও দরবার শরিফে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা দেওয়া হয়। সেখানে হিংসা-বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে পারলে মানিকগঞ্জ আবারও একটি সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী জেলায় পরিণত হবে। যে জেলা নিয়ে সবাই গর্ব করতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। অসৎ ব্যক্তি চেয়ারম্যান হলে উন্নয়নের অর্থ নিজের পকেটে যাবে, এলাকার মানুষের উপকার হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাস্তাঘাটের উন্নয়নে অনুদান নিয়ে আসব। কিন্তু আপনারা যদি খারাপ লোককে চেয়ারম্যান বানান, তাহলে তিনি পকেটে ভরবেন। এলাকার উপকার হবে না। বরাদ্দ আনতে পারব আমি, কিন্তু সঠিক বণ্টন করবেন চেয়ারম্যান।’
চেয়ারম্যান নির্বাচনে নিজের কোনো ভূমিকা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে তাঁর কোনো হাত নেই, এমনকি তিনি একটি ভোটও দিতে পারবেন না। তবে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব ভোটারদেরই নিতে হবে।
নিজের রাজনৈতিক পথচলায় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সমর্থন ও ভালোবাসার কারণেই তিনি জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রিত্বের মর্যাদা পেয়েছেন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করতে চান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজীপুর দরবার শরিফের পীর সাহেব মো. আতাউর রহমান। আয়োজক ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. মোশাররফ হোসেন চাঁন ও আফরোজা বেগম ডলি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে মাল্যদান, বস্ত্র বিতরণ, বিশেষ সংবর্ধনা, তবারক বিতরণ এবং লালন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
এটিভি/ এইচকে
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available