টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজের ২৪ দিন পর মো. সবুজ (১৪) নামে এক কিশোরের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আন্দি এলাকার শালবন থেকে তার মাথার খুলি, হাড়গোড়, জুতা ও পোশাক উদ্ধার করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ, এসআরবি ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সবুজ সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে। অল্প বয়সেই পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছিল সে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সবুজ। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার বাবা সিরাজ মিয়া।
অভিযোগের পরদিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী এলাকা থেকে সবুজের অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোপালপুর থানা-পুলিশ স্থানীয় রফিক (৫০) ও রহিম (৩০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে।
তবে অটোভ্যান উদ্ধারের পরও তিন সপ্তাহ ধরে সবুজের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গত ১৮ অক্টোবর পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে এসআরবি।
এরপর গত ১৯ অক্টোবর টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান (৩৫) এবং করটিয়া এলাকা থেকে শাহীন (২৩) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এসআরবি জানায়, গ্রেফতার হাবিবুর রহমান ও শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সখীপুরের আন্দি এলাকার একটি শালবন থেকে সবুজের দেহাবশেষ, জুতা ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। সবুজের বাবা সিরাজ মিয়া উদ্ধার হওয়া জুতা, গামছা ও পোশাক তার ছেলের বলে শনাক্ত করেছেন।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হাবিবুর রহমান ও শাহীন গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে যাত্রীবেশে সখীপুরের তালতলা চত্বর থেকে সবুজের অটোভ্যানটি ভাড়া করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যার দিকে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে সবুজকে খাওয়ানো হয়। এতে সে অচেতন হয়ে পড়ে।
পরে সবুজের হাত-পা বেঁধে তাকে আন্দি এলাকার শালবনের ভেতরে ফেলে রেখে অটোভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ কিশোর সবুজের কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। প্রথমদিকে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available