আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি ও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আজই’ (রোববার) ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক ও চমৎকার’ কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পথও খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তেহরান যাতে কোনোভাবেই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সম্ভাব্য হামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখে বলেন, ‘আমরা কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছি, আর সেটা হয়তো আজই (রোববার) হতে পারে। তবে আপনারা কি সত্যিই আশা করেন আমি আগেভাগেই জানিয়ে দেব আমরা হামলা চালাচ্ছি কি না?’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি; একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে ইরান এই সামরিক বিপর্যয় এড়াতে পারে। তবে চুক্তি হলেও তেহরান তা বাস্তবে কতটা মেনে চলবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি সমঝোতা করতে আগ্রহী। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, চুক্তিটি তারা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে তো?’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ওয়াশিংটন যে অভিযান পরিচালনা করেছিল, তা এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই বিষয়টি চিরতরে নিষ্পত্তি করতেই তিনি এগোচ্ছেন।
এ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য করে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এখন সেখান দিয়ে অনেক বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছে (যদিও এর পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ডেটা দেননি তিনি)।
চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার না করে দুটি পথকেই খোলা রাখার কৌশল ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হয় আমাকে সামরিকভাবে এর শেষ টানতে হবে, নয়তো তারা একটি ভালো চুক্তিতে সই করবে। তবে যাই ঘটুক না কেন, জয় দিনশেষে আমাদেরই হবে।’
উল্লেখ্য,চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একপর্যায়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হলেও অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তির সমাধান এখনো ঝুলে রয়েছে।
এটিভি/ আর এম
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available