আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। ২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালীর পূর্ব আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কিশম দ্বীপের আকাশে আরও ২টি মার্কিন ‘এমকিউএম-১৭০’ নজরদারি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশম দ্বীপে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সুরক্ষায় উপরিভাগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই এই সীমিত আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরের দিকে কিশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও (আইএমও) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২ নভেম্বর লন্ডনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী আপাতত কোনো জাহাজের চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়। ইরানের জলসীমায় মাইন পেতে রাখার পরোক্ষ অভিযোগ ও মার্কিন দাবির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও, প্রণালীটি মাইনমুক্ত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাননি। আন্তর্জাতিক রুট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
গত অক্টোবরেই এই জলসীমায় অন্তত ৩০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে আইএমও। এসব হামলায় তেল ছড়িয়ে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০টি জাহাজে ৬ হাজার নাবিক চরম ঝুঁকিতে আটকা পড়েছেন।
এদিকে, কাতারের একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারে সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিক জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পুরোপুরি বেআইনি, যা বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে তুলছে। হরমুজ প্রণালীতে মুক্ত নৌচলচল ফেরাতে অবিলম্বে কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক সংঘাত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এটিভি/এসটিও
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available