আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি কম হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষদের দাওয়াত দিয়েছিলেন চীনের এক তরুণ। কিন্তু সেই অনলাইন আমন্ত্রণ যে এত বিশাল এক উৎসবে রূপ নেবে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। তার সেই বিয়েতে হাজির হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নানা উপহার, খাবার ও ফুল। এমনকি নবদম্পতির জন্য উপহার হিসেবে এসেছে একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ-বেঞ্জ (মেবাখ) গাড়িও!
সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশের ইলিয়াং কাউন্টির ২৪ বছর বয়সী সু ছেংহংয়ের বিয়ের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খোলা আমন্ত্রণ জানান সু। নিজের পারিবারিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি অপরিচিত মানুষদের তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন, যাতে বিয়ের দিনটি অতিথিশূন্য না থাকে এবং সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যায়।
মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান সু। মা অন্যত্র বিয়ে করার পর দাদির কাছে বড় হলেও একসময় দাদিও মারা যান। এরপর বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়েই তার জীবন সংগ্রাম শুরু হয়। ফলে বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানোর মতো পর্যাপ্ত আত্মীয়স্বজন তার ছিল না। নিজের উপার্জনের টাকা জমিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ২৬ হাজার ১৫৩ টাকা, প্রতি চাইনিজ ইউয়ান ১৮.৬৬ টাকা ধরে) দিয়ে বিয়ের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তিনি; কিন্তু আত্মীয়স্বজনের অভাবে অনুষ্ঠান ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনলাইনে অপরিচিতদের আমন্ত্রণ জানান।
তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার মানুষ। কেউ নিয়ে আসেন খাবার, ফুল ও নানা উপহার; কেউ আবার নিজ দায়িত্বে বিয়ের রান্না, সাজসজ্জা ও অতিথিদের আপ্যায়নের কাজ শুরু করেন। বেশ কয়েকজন রাঁধুনি স্বেচ্ছায় খাবার রান্নার দায়িত্ব নেন। এমনকি নবদম্পতির জন্য একটি বিলাসবহুল মেবাখ গাড়িও উপহার দেন এক ব্যক্তি।
অতিথির সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সুয়ের বাড়িতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় একটি খোলা ও বড় মাঠে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই আকস্মিক ভিড়ে স্থানীয় হোটেলগুলোতে কক্ষের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং রেস্তোরাঁগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
গত ৩১ অক্টোবর চুইচুই নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন সু। এই বিয়েতে ১০ হাজারের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বর-কনে আংটি বদল করেন এবং অতিথিদের সামনে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে সম্মান জানান। এরপর মিয়াও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আগুন ঘিরে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে আনন্দ উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের নগদ উপহার না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সু। পাশাপাশি সবাইকে নিরাপদে যাতায়াত ও নিজেদের জিনিসপত্রের যত্ন নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রচারের কৌশল বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আবার এত মানুষের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা, তীব্র যানজট ও আবাসনের ব্যবস্থা নিয়েও অনেকে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে বিয়ের আগেই স্থানীয় গ্রাম কমিটিকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছিলেন সু এবং সবাইকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available