• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ০৯:৪২:৫০ (07-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:১৫:১০

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
প্রতীকি ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবের স্মরণে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকার, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনেও। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রে জানানো হয়েছে। খবর বাসসের।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ দেশে সাধারণ ছুটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার মাজারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

নতুন দায়িত্বে শিক্ষামন্ত্রীসহ ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

গত ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শোভাযাত্রা শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘র‌্যালিটি নয়া পল্টন থেকে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেইট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।’

‘র‌্যালির আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।’

আরও পড়ুন

সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ঢাকার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে জানান রিজভী। শোভাযাত্রা সফল করতে বিএনপি মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী

আরও পড়ুন

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুন

মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

বাণীতে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল।

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নানা কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে সরকার দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে।

জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধন কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক দিনব্যাপী বিনা টিকিটে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর, সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরগুলোতে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে।

ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার জন্য টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন যানবাহন চালকেরা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহন টোলমুক্ত সুবিধা পাবে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস প্রসঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার মিলিত এক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। ওই মহান বিপ্লবে আধিপত্যবাদী শক্তির সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। সুসংহত হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। ফলে ৭ নভেম্বরের দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে জাতির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর ৩, ৪ ও ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ছিল কার্যত সরকারবিহীন। এ সময় কুচক্রীরা সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে তার বাসভবনে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু ৬ নভেম্বর রাতে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবে নস্যাৎ হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। চার দিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পান জিয়া। রেডিওতে ভেসে আসে তার কণ্ঠ-‘আমি জিয়া বলছি’। ভাষণে তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত, আবেগপূর্ণ এবং সময়োচিত ভাষণ দেশের জনগণকে উদ্দীপ্ত করে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি ছিলো ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে এই তারিখটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে উজ্জ্বল ও ভাস্মর হয়ে আছে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খান বলেন, ১৯৭৫ সালের  ৭ নভেম্বর সেনা অধিনায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের জীবন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইতিহাসে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। ৭ নভেম্বর সংগঠিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবই আমাদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে দেশের রাজনীতিতে টেনে এনেছিল,  এক কঠিন সময়ে তাঁকে জাতির মহান কাণ্ডারীর ভূমিকায় বসিয়েছিল।

এটিভি/এসআইআর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ


আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত থাকবে এক্সপ্রেসওয়ে
আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত থাকবে এক্সপ্রেসওয়ে
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৯:১৭:২৩

সৌদিতে সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে তুরস্ক
সৌদিতে সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে তুরস্ক
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৯:১০:৩৩


ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকতে পারে
ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকতে পারে
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৫৬:২৬

আজকের খেলা (৭ নভেম্বর ২০২৬)
আজকের খেলা (৭ নভেম্বর ২০২৬)
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৪৭:৫৭

আজকের রাশিফল (৭ নভেম্বর ২০২৬)
আজকের রাশিফল (৭ নভেম্বর ২০২৬)
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৪৩:৩৬

আজকের নামাজের সময়সূচি (৭ নভেম্বর ২০২৬)
আজকের নামাজের সময়সূচি (৭ নভেম্বর ২০২৬)
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:২৪:২৫

আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:১৫:১০