অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে যুবদলকে উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। খালখনন, বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনসহ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনটিকে ভূমিকা রাখতে হবে।
২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং উৎপাদন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুবদল গঠন করেছিলেন। এ ছাড়াও যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে যুব মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বলেন, তাঁর শাসনামলে যুবকদের হাতের কাজ, টাইপিং ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুবদলও দেশের পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অর্থনীতিবিদদের গবেষণায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্েযর হার আরও ৫ শতাংশ কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে এক থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার খালখনন এবং তিন থেকে চার কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। দেশকে বসবাসযোগ্য করে তোলাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। যুবদলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশীদার হওয়া উচিত।
সংগঠনটির নেতাকর্মীরা খালখনন, বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবদল আরও জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, জনগণ অবাধে কথা বলতে পারবে, নির্ভয়ে চলাচল করবে এবং পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে- বিএনপি এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সুযোগ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধ দমনে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে।
এসব আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন সম্ভব। গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বেআইনি পদ্ধতি অপরাধ দমনে কার্যকর নয়। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ দিলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গুম, ক্রসফায়ার, গুপ্তহত্যা, রক্তপাত, অমানবিক দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বেআইনি পদ্ধতি কখনও অপরাধ দমনের কার্যকর উপায় হতে পারে না। সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
অনুষ্ঠানে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, চিকিৎসক ডা. লোহানীসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন।
এটিভি/ এম এইচ আই
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available