শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে বসতে চান পুতিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও হোয়াইট হাউজে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জয়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে, এবার বন্ধ হতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। দুই দেশের চলমান এই সংঘাতে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলার সহায়তা দেয়া নিয়ে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।তিনি একবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এ যুদ্ধ শেষ করবেন। এবার গুঞ্জন উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে বসতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।রাশিয়ার সাবেক ও বর্তমান পাঁচ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ট্রাম্পের সঙ্গে বসতে কিছু শর্ত আছে পুতিনের। এর মধ্যে আছে, রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনের ভূখণ্ডগুলো নিয়ে বড় কোনো ছাড় না দেয়া এবং কিয়েভের পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা ত্যাগের বিষয়। তবে ওই কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কোনো চুক্তি হলে, তাতে ইউক্রেনে চলমান সম্মুখসারির যুদ্ধ বন্ধে রাজি হতে পারে ক্রেমলিন। পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল ভাগাভাগির বিষয়েও আলোচনার সুযোগ রাখা হবে।এই চার অঞ্চলকে বর্তমানে নিজেদের বলে দাবি করে রাশিয়া। এছাড়া খারকিভ ও মিকোলাইভের যেসব এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারেও রাজি হতে পারে ক্রেমলিন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হলে, রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সূত্র।তবে তারা বলছেন, ইউক্রেন ঘিরে পশ্চিমাদের ‘নির্মম সত্য’ মেনে নিতে হবে। আর সেটি হলো, ইউক্রেনকে অন্ধ সমর্থনের পরও, তারা চলমান এ যুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় ঠেকাতে পারবে না।এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছেন, চলতি বছরই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তার দাবি, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার মধ্যদিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু হয়েছে। খবর কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্ট।