বাকৃবিতে প্ল্যান্ট লাভার্স গ্রুপের ৭ বছর পূর্তিতে বৃক্ষমেলা
বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করা হয় বাকৃবি প্ল্যান্ট লাভার্স গ্রুপের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বৃক্ষমেলা। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। মেলার প্রাণবন্ত আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা এমন ছিল, প্রকৃতির প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ।প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম। তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাছের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, ময়মনসিংহ শহরের সাধারণ বাসিন্দাদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাকৃবি প্ল্যান্ট লাভার্স গ্রুপের মূল লক্ষ্য ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা। গ্রুপটির সদস্যরা পড়ার টেবিল, হল রুম, জানালার পাশে বা বারান্দায় গাছের চারার যত্ন করেন। শুধু সচেতনতামূলক কাজ নয়, গ্রুপটি একটি কমিউনিটির মতো কাজ করে। সদস্যরা তাদের গাছের ছবি শেয়ার করা, গাছ বিনিময় বা কেনা-বেচা এবং গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।জানা যায়, এবারের বৃক্ষমেলায় ১৩টি স্টল ছিল, যেগুলো পরিচালনা করেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা। স্টলগুলোতে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, ইনডোর প্লান্টস, দেশি-বিদেশি গাছের চারা, সার ও মিডিয়া বিক্রি করা হয়। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য গাছের যত্ন সম্পর্কিত পরামর্শ দেওয়া হয়। গাছের পাশাপাশি এবারের মেলায় খাবার ও মেহেদীর স্টলও ছিল, যা মেলায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিলো।বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং "আরবান ফারমার্স" স্টলের স্বত্বাধিকারী ইশতিয়াক মাহমুদ সিফাত বলেন, এবারের বৃক্ষমেলায় আমরা প্রায় ৬০ ধরনের বিরল ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট এবং ইনডোর প্লান্টস নিয়ে এসেছি। শিক্ষার্থীদের গাছের যত্ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন করতে এটি আমাদের একটি ছোট্ট প্রচেষ্টা।প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা মেলায় গাছের চারাসহ অন্যান্য উপকরণ কেনার পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ভাগাভাগি করেছেন। মেলার পরিবেশ দেখে বোঝা যায়, এটি শুধু একটি বৃক্ষমেলা নয় বরং একটি মেলবন্ধন, যা প্রকৃতিকে আরও আপন করে তোলে।গ্রুপটি শুধু ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। বাইরের গাছপালার তথ্য শেয়ার করা, গাছের ছবি বিনিময় করা এবং সহজলভ্য গাছের পরিচয় দেওয়া তাদের নিয়মিত কার্যক্রম। এই মেলার সফল সমাপ্তি প্রমাণ করে, গ্রুপটি শিক্ষার্থীদের গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।দর্শনার্থী একজন বলেন, বাকৃবি প্ল্যান্ট লাভার্স গ্রুপের বৃক্ষমেলা প্রমাণ করেছে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ সুদৃঢ় করতে শুধু সচেতনতা নয় বরং উদ্যোগী হতে হয়। এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন গাছের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন, তেমনই তারা পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরও বেশি সংখ্যায় এবং বিস্তৃতভাবে হবে, এই প্রত্যাশা সবার। এবারের মেলার আয়োজনে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সানজিদা সাকি এবং অ্যাডমিন প্যানেলের বিশেষ ভূমিকা ছিল।গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ সানজিদা সাকি বলেন, প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকলেও গাছ প্রেমীদের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই এই চিন্তা থেকেই গ্রুপটির কাজ শুরু করা। সানজিদার পাশাপাশি অ্যাডমিন প্যানেলের সহযোগিতায় এই গ্রুপটি এখন ক্যাম্পাসে একটি শক্তিশালী ও সচেতনতা বৃদ্ধিকারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।