বৈষম্যমূলক শান্তি চুক্তি বাতিল করতে হবে: শাহজাহান চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক হুইপ, সাবেক এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ভারতের সাথে করা দেশবিরোধী সকল অবৈধ চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম কালো চুক্তি ও বৈষম্যমূলক শান্তি চুক্তি বাতিল করতে হবে।৭ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে (আকরাম খা হল) বৈষম্য বিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐক্য পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক তৌহিদ আজাদের পরিচালনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমির এস. এম আব্দুস সালাম আজাদ, আইআইইউটি ঢাকার অধ্যাপক ড. আমান উদ্দিন মুজাহিদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।প্রধান অতিথি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে জাতিসংঘে জোড়ালো বক্তব্য প্রদান করেছেন। এর আগে এমন সাহসী বক্তব্য বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র প্রধান দিতে পারেনি। বৈষম্যমূলক এ শান্তি চুক্তি বাতিল করতে হবে।শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তার যোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন জামায়াতের এ নেতা। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হুমকির মুখে উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাগণ যেন এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সে ব্যাপারে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রত্যাহারকৃত ২৪১টি সেনা ক্যাম্প পূনস্থাপন করা খুবই জরুরি বলে উল্লেখ করেন।মতবিনিময় সভায় অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করতে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে ল্যান্ড কমিশন, ১৯০০ সালের পার্বত্য আইন, সকলের জন্য সর্বস্তরে সমহারে কোটা স্থাপন, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন, পার্বত্য অঞ্চলকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা, রাবার শিল্পকে কৃষি শিল্প হিসেবে উন্নত করা, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বন্দর স্থাপন করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব বলে জানান।মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরাম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মুজাহিদ, চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক এ এইচ এম ফারুক, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির, পিএইচডি গবেষক জাকির হোসেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি আতিকুর রহমান, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুক সুজন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।